
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলায় লাখো বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই দেশটির খেরসন অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে কার্যকর করা সীমিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার রাতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার রাতভর রাশিয়া দেশটির চারটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েক লাখ বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দিনভর কাজ চললেও ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন।
নিয়মিত হামলার কারণে ইউক্রেনজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রাজধানী কিয়েভেও দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ব্যাহত হচ্ছে পানির সরবরাহও।
এদিকে ভিন্ন এক হামলায় ভিনিতসিয়া অঞ্চলে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ।
জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি উৎপাদনকারী একটি বড় স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে আগুন ধরে যায় এবং উৎপাদন স্থাপনার চারটি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত এক সপ্তাহে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা ‘অত্যন্ত বেশি’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার সংকটের সুযোগ নিতে চাইছে মস্কো। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অন্যান্য সহযোগী দেশকে প্রতিদিন জানানো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে খেরসন অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে কার্যকর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার রাত ১০টা ৫৯ মিনিটে (ইউক্রেনের স্থানীয় সময়) শেষ হওয়ার কথা। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধবিরতি প্রথমে রুশ দখলে থাকা ওলেশকি শহরে কার্যকর করা হয়। পরে তা খেরসন অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় সম্প্রসারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর সহায়তায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিকেই ওলেশকি শহরটি রুশ বাহিনীর দখলে যায়। শহরটির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, পানি ও বিদ্যুতের সংকটে ছিলেন। শহরটির চারপাশের বের হওয়ার পথগুলোতে মাইন পুঁতে রাখা এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
যুদ্ধবিরতির সুযোগে শহরটি থেকে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার কয়েক বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা স্বজনদের পুনর্মিলনের আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়। ইউক্রেনের মানবাধিকার ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস জানিয়েছেন, সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্কের বয়স ৯৪ বছর এবং সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স মাত্র এক বছর।

