বিনোদন ডেস্ক : ব্যক্তিগত জীবন ও বৈবাহিক সম্পর্কের ভাঙাগড়া নিয়ে অতীতে বহুবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন টালিউড মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তবে অতীতের সেই টানাপোড়েন পেছনে ফেলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তৃতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী অর্পিতা পালের (চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গে সংসার টিকিয়ে রেখেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক বিশেষ আড্ডায় নিজের দাম্পত্য জীবন ও স্ত্রী অর্পিতার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে এক চমকপ্রদ ও অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রসেনজিৎ স্মরণ করেন তার অতীতের সম্পর্কের জটিলতা। তার মতো একজন ব্যস্ত ও জটিল জীবনযাত্রার মানুষের পাশে টিকে থাকা যে সহজ কাজ ছিল না, তা স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেন তিনি।

প্রসেনজিৎ বলেন, “অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, মানে আমার স্ত্রী—ওকে একটা জায়গায় ভীষণ সম্মান করি যে ও সবকিছু সহ্য করে এতদিন আমার সঙ্গে রয়ে গেছে। কারণ, অনেকগুলো বউ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, ও এখনও যায়নি! ও আমাকে সহ্য করেছে। আই লাভ হার অ্যান্ড আই রেসপেক্ট হার (আমি ওকে ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি)। আর ও খুব ভালো একজন অভিনেত্রীও বটে।”

টালিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একচ্ছত্র দাপটের কারণে ভক্তরা যাঁকে ভালোবেসে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ আখ্যা দিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত জীবন বারবারই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে।

১৯৯২ সালে ছেলেবেলার বন্ধু ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি; তবে তিন বছরের মাথায় সেই দাম্পত্যের ইতি ঘটে। এরপর অপর্ণা গুহঠাকুরতার সঙ্গে দ্বিতীয়বার গাঁটছড়া বাঁধলেও সেই সম্পর্কও স্থায়ী হয়নি। অপর্ণার সঙ্গে প্রসেনজিতের প্রেরণা নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে, যিনি পেশায় আইনজীবী এবং বিদেশে বসবাস করেন। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ জানিয়েছিলেন, মেয়ের সঙ্গে তার কোনো নিয়মিত যোগাযোগ নেই।

পরবর্তীতে ২০০২ সালে অভিনেত্রী অর্পিতা পালের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন প্রসেনজিৎ। তাদের একমাত্র সন্তান তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায় (মিশুক)। বিগত বছরগুলোতে এই তারকা দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে বহু গুঞ্জন ও কানাঘুষা ছড়ালেও যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘ দুই যুগ একসঙ্গে পার করেছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতার এমন স্বভাবসুলভ ও কৌতুকপূর্ণ বক্তব্য নেটিজেন এবং অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *