বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামনে এলো নতুন সমীকরণ। হামলাকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য অভিনেতা ছিলেন না; বরং অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে তারা মুম্বাইয়ে এসেছিল বলে জানা গেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। ফুটবল খেলা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় অভিনেতার ওপর হামলা হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সূত্র জানায়, শুরুতে অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ে এসেছিল তারা। ওই ব্যক্তির চলাচলের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করার পর তার কাছে পৌঁছানো কঠিন বলে মনে হয় তাদের। পরে ভক্তদের প্রকাশ করা বিভিন্ন ভিডিও রিল দেখে তারা জানতে পারে, টাইগার শ্রফের সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তা থাকে না। এরপর অভিনেতাকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টাইগার শ্রফ ও তার ভক্তদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে অভিনেতার চলাফেরা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল হামলাকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, অভিনেতাকে হত্যা করে বলিউডে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

হামলার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে সাতটি গুলি ছোড়া হয়। আরও গুলি চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও একটি আগ্নেয়াস্ত্রে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় অভিনেতা ও তার গাড়িচালক আহত হন। পরে তারা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন।

‘বোঝানোর চেষ্টা করেও কাজ হয়নি’
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এ ঘটনার দায় স্বীকার করে। গ্যাংটির দাবি, সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে টাইগার শ্রফকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অভিনেতা তাদের কথা শোনেননি।

হামলার পর প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে গ্যাংটির সদস্য পরিচয় দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো। আজ টাইগার শ্রফের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার দায় আমরা নিচ্ছি।’

অডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, টাইগার শ্রফকে সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাদের কথা বুঝতে পারেননি। পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পের যেসব ব্যক্তি গ্যাংটির সঙ্গে সমন্বয় না করে কাজ করবেন কিংবা সালমান খানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ওই বক্তব্যে এটিকে প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব দাবি গ্যাংটির পক্ষ থেকেই করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার জন্য অভিযুক্তদের আগাম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। কাজ শেষ করতে পারলে আরও অর্থ এবং বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। গুলি চালানোর পর তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রকদের অভিযান সম্পন্ন হওয়ার কথা জানায় বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর সোমবার টাইগার শ্রফের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে কারও দাদাগিরি বরদাশত করা হবে না। ঘটনাটিকে গুরুতর উল্লেখ করে তিনি জানান, হামলায় অভিনেতার গাড়িচালক আহত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *