ডেস্ক নিউজ : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এসময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষের পর আবারও সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এতে ঘটনাস্থলে  চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান শুরু করেন শ্রমিকরা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শনিবার দুপুরে ‘ইন্টারস্টপ পোশাক কারখানার’ শ্রমিকরা কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের ডিভাইন টেক্সটাইলসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন জ্বালানো হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

শ্রমিকরা জানান, কয়েক দিন ধরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন তাঁরা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তারা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের অন্তত ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, দুপুরের পর কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে যোগ দেন। তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের শান্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আশপাশের ১২ থেকে ১৬টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *