শিক্ষা ডেস্কঃ এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সব বিষয়ে নয়, কেবল যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হবে, সেসব বিষয়েই পুনঃপরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, চলতি বছর থেকেই এ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের আগ্রহ রয়েছে। তবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা আয়োজন করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ কারণে পুনঃপরীক্ষার নিয়ম, সময়সূচি ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণে একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষা চালুর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। তবে পরীক্ষা আয়োজনের সময়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নির্ধারণে নীতিমালা প্রয়োজন। এ কারণে আগামী বছর থেকে এ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে তা জমা দেওয়ার আশা করছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এরপর কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে।

গত ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সে হিসাবে অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী।

বর্তমান ব্যবস্থায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাধারণত পরবর্তী বছরের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ চালু করা গেলে তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হতে পারে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির সময় অতিরিক্ত একটি সেট প্রস্তুত রাখা, ফল প্রকাশের পর পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নতুন করে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া এবং সীমিতসংখ্যক কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ফল প্রকাশের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।

তবে পুনঃপরীক্ষা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং অংশগ্রহণের নিয়মাবলি নীতিমালা প্রণয়নের পরই স্পষ্ট হবে।

By Moon

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *