বকেয়া ও ন্যূনতম বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের নাওজোর এলাকায় তারা সড়ক অবরোধ করে এই আন্দোলন শুরু করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সকালে চন্দ্রাপল্লী বিদ্যুৎ মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা চালান আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের সেখান থেকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শ্রমিকরা নাওজোর এলাকায় গিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন।

 

এদিকে কোনাবাড়ী এবং মৌচাকেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা।

এদিকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে গাজীপুরে আলাদা তিনটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) কোনাবাড়ী, বাসন ও কালিয়াকৈড় থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করে। তিন মামলায় মোট ৩ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আসছেন। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বাহাল ও আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে গতকালও সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।

গতকাল সোমবার সারা দেশে ৬৭০টি কারখানা বন্ধ হয়ে পড়েছিল এবং প্রায় ১৭ লাখ শ্রমিক কাজ না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠক হয়।

By Nasim

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *